ডিজিটাল আইনের অপব্যবহার না হলে ভোগান্তিও হবে না

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ২০০৯-১৩ মেয়াদে প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং পরে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এবার পেয়েছেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের কাজের অগ্রাধিকার-চ্যালেঞ্জ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। ৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোশতাক আহমেদ।

প্রথম আলো: সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনার অগ্রাধিকার কী এবং সামনে কী চ্যালেঞ্জ দেখতে পাচ্ছেন?হাছান মাহমুদ: তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেশের সমস্ত গণমাধ্যমের সংশ্লেষ রয়েছে। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি প্রথম দিন থেকেই চেষ্টা করছি সাংবাদিকদের যে বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো দেখভাল করার। এ ছাড়া বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্মিলিত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। আমি কোনো কিছুকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বলতে চাই না। সামনে অনেক কাজ আছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করা এবং সবার পরামর্শ নিয়ে আরও নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করাই আমার কাছে অগ্রাধিকার।

প্রথম আলো: দেশে গণমাধ্যমের পরিসর অনেক বড় হয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় পেশাদারত্বের পথটি মসৃণ নয়। এ থেকে উত্তরণে আপনার নিজের কোনো ভূমিকা থাকবে?

হাছান মাহমুদ: একসময় বাংলাদেশে বেসরকারি টেলিভিশনই ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় এর যাত্রা শুরু হয়। এখন ৩০টির বেশি বেসরকারি চ্যানেল চালু আছে। মোট ৪৪টির লাইসেন্স দেওয়া আছে। গত কয়েক বছরে যেভাবে অনলাইন গণমাধ্যমের বিস্তার ঘটেছে, সেটিও অভূতপূর্ব। একই সঙ্গে সংবাদপত্রেরও ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। এখন পেশাদারত্বকে আরও দৃঢ় করতে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মাধ্যমে অনেকগুলো কোর্স চালু করা হয়েছে। সেখানে স্নাতকোত্তর কোর্স শুরু হয়েছে। এই কোর্সগুলো ঢাকার বাইরেও যাতে করানো যায়, তার চিন্তাভাবনা হচ্ছে। জ্যেষ্ঠ ও বরেণ্য সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করেই আমরা এই কাজগুলো করতে চাই।

প্রথম আলো: একসময় দেশে চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল অবস্থান ছিল, এখন সেই অবস্থা নেই। চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশের জন্য তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনি কী ভূমিকা নেবেন?

হাছান মাহমুদ: চলচ্চিত্রকে বাঁচিয়ে রাখা এবং সুষ্ঠু ও সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের দর্শকদের আবার ফিরিয়ে আনা একটি চ্যালেঞ্জ। সে জন্য আমার পূর্বসূরি অনেকগুলো কাজ হাতে নিয়েছিলেন। এফডিসির আধুনিকায়নে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। আমরা এফডিসির আউটলেট করার চিন্তা করছি, বিশেষত চট্টগ্রামে। ভালো সিনেমা যাতে হয়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়া হয়। সেই প্রণোদনা আরও বাড়ানোর চিন্তা আছে। দেখা যায়, সিনেপ্লেক্সে মানুষ বেশি যাচ্ছে, কিন্তু সিনেমা হলে যাচ্ছে না। এ জন্য সিনেমা হলগুলো আধুনিকায়নের জন্য আমরা একটি প্রকল্প নিচ্ছি। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কমিউনিটি হল নির্মাণ করে, সেগুলোতে সিনেমা প্রদর্শন করা যায় কি না, তা–ও চিন্তা-ভাবনা করছি।

প্রথম আলো: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে অস্বস্তি আছে, সেটা নিরসনে আপনার ভাবনা কী?

হাছান মাহমুদ: প্রথমত, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হচ্ছে বাংলাদেশের সমস্ত মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। ডিজিটাল অপরাধের বিপরীতে সাংবাদিকসহ দেশের সব মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই এই আইন। এখানে কিছু ধারার ব্যাপারে সাংবাদিকদের উদ্বেগ আছে। সেই উৎকণ্ঠা দূর করার জন্য কাজ করছি, যাতে কোনো ধারার অপপ্রয়োগ না হয়। আইনের অপপ্রয়োগ না হলে ভোগান্তি হয় না।

প্রথম আলো: সম্প্রচার কমিশন কবে হবে?

হাছান মাহমুদ: সম্প্রচার আইন পাস হলে সম্প্রচার কমিশন গঠন সম্ভব হবে। তাই আইনটি যাতে দ্রুত পাস করাতে পারি, সে জন্য কাজ করছি।

প্রথম আলো: সব সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণের কথা বলে। আপনি এ ক্ষেত্রে বিশেষ কী করবেন?

হাছান মাহমুদ: আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সাংবাদিকদের কল্যাণে নানা কর্মসূচির কথা বলা আছে। সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলে আগে ১০ কোটি টাকা ছিল। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি টাকা যুক্ত করেছেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও চেষ্টা করছি টাকা আরও বাড়ানোর। অসুস্থতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সন্তানদের পড়ালেখাসহ আরও কয়েকটি বিষয় এই তহবিলে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ করছি। আর সাংবাদিকদের বেতন–ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে নবম মজুরি বোর্ডও শিগগির বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আশা করছি। আমাদের ইশতেহারেই সাংবাদিকদের জন্য আবাসনের কথা বলা আছে। এ বিষয়ে আমাদের মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠক করেছি। সেই আলোচনার ভিত্তিতে শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে কথা বলব, যাতে প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে এই কর্মসূচি শুরু করতে পারি।

About অনলাইন নিউজ ডেস্ক, সম্পাদনায়-সাইমুর রহমান

Check Also

কথা বেশি, কাজ কম

• অতীতে সিদ্ধান্তের কমতি নেই • সুপারিশও হয়েছে অনেক • উচ্চপর্যায়ের মনোযোগে কমতি নেই • …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *