তামাকের দাম বাড়াতে চিঠি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির

আসন্ন বাজেটে তামাকজাত পণ্যের কর বৃদ্ধির মাধ্যমে দাম বৃদ্ধির জন্য অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস ৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে এ চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে সাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন—পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকু, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মকবুল হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।
চিঠিতে তামাক পণ্যের কর বাড়াতে সিগারেটের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চারটি মূল্যস্তর (৩৫, ৪৮, ৭৫ এবং ১০৫ টাকা) বিলুপ্ত করে দুটি মূল্যস্তর (৫০ ও ১০৫ টাকা তদূর্ধ্ব) নির্ধারণের পাশাপাশি ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে পাঁচ টাকা নির্দিষ্ট কর আরোপের দাবি জানানো হয়।

বিড়ির ক্ষেত্রে ২৫ শলাকার প্যাকেটের দাম সর্বনিম্ন ৩৫ টাকা ধরে তার সঙ্গে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও প্রতি প্যাকেটে ছয় টাকা সুনির্দিষ্ট কর বসানো এবং গুল-জর্দার ক্ষেত্রে ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বাতিল করে সিগারেট ও বিড়ির ন্যায় খুচরা মূল্যের ভিত্তিতে করারোপের সুপারিশ করা হয়।
দেশে বর্তমানে পৌনে চার কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন জানিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিরা বলেছেন: তামাক ব্যবহারের ফলে প্রতিবছর চিকিৎসা ও উৎপাদনশীলতা হারানো বাবদ ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হচ্ছে।

চিঠিতে বলা হয়, তামাকের এ ক্ষতি প্রতিরোধ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় স্পিকার সম্মেলনে ঘোষণা দেন ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার। এ ঘোষণা বাস্তবায়নে তামাকের ওপর বর্তমান শুল্ক কাঠামো সহজ ও দৃঢ় করার নির্দেশ রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

কর কাঠামো শক্তিশালী হলে তামাক জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে যাবে এবং সরকারের শুল্ক আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর তামাকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে আসন্ন বাজেটের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ চিঠিতে তুলে ধরা হয়।
এর আগে শুল্ককর বাড়ানোর মাধ্যমে ধূমপায়ী ও তামাকসেবীর সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে সিগারেটের দাম সর্বনিম্ন ৯ টাকা করার প্রস্তাব দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

About hasan mahmmud

Check Also

এই সরকার লুটেরা তোষণকারী

ব্যাংক খাতে অব্যবস্থাপনা ও খেলাপি ঋণ নিয়ে জাতীয় সংসদে সমালোচনা করেছেন একাধিক সাংসদ। ব্যাংক খাতের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *